ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ:ছেলেদের ২০০+ইসলামিক অর্থসহ নাম জেনে নেই।

ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ: সুন্দর ও উত্তম নাম পাওয়া প্রতিটি নবজাতকের জন্মগত অধিকার। আর সন্তানের সুন্দর নাম রাখা মা-বাবার ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। কেননা ইসলামে সুন্দর নাম রাখার গুরুত্ব অনেক বেশি। নাম দিয়েই ব্যক্তির প্রথম পরিচয় ফুটে ওঠে।জন্মের পর প্রত্যেক পিতা-মাতাই চান তার সন্তানের সুন্দর নাম হোক, সবাই তার সন্তানকে ভাল নামে ডাকুক। এমনকি ব্যক্তি নিজেরও তার নাম সুন্দর হোক তা চান। একজন মুসলিমের সর্বোত্তম নাম কি হবে, কোন ধরনের নাম প্রশংসনীয়, কোন ধরনের নাম বৈধ বা অপছন্দনীয়, ইসলাম এ ব্যাপারে সুম্পষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়েছে।

আর এই নাম রাখার ব্যাপারে ইসলামে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিটি মানুষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে তার নাম, উপনাম কিংবা উপাধি। নাম রাখার ব্যাপারে হজরত রাসূল (সা.) শিশুর জন্মের সপ্তম দিন নবজাতকের উত্তম ও সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিজি)

ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ

সুন্দর নাম রাখার গুরুত্ব: সুন্দর নাম রাখার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন। একটি অর্থবোধক ইসলামিক নাম পাওয়া প্রতিটি মুসলিম শিশুর জন্মগত অধিকার।

সুন্দর নাম রাখার তাগিদ দিয়ে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদের নিজ নাম ও পিতার নামে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখো। (আবু দাউদ)আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে

বা অপছন্দনীয়, ইসলাম এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়েছে।আর এই নাম রাখার ব্যাপারে ইসলামে অত্যধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রতিটি মানুষের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে তার নাম, উপনাম কিংবা উপাধি। নাম রাখার ব্যাপারে হজরত রাসূল (সা.) শিশুর জন্মের সপ্তম দিন নবজাতকের উত্তম ও সুন্দর অর্থবোধক নাম রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। (তিরমিজি)সুন্দর নাম রাখার তাগিদ দিয়ে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের দিন তোমাদের নিজ নাম ও পিতার নামে ডাকা হবে। সুতরাং তোমরা সুন্দর নাম রাখো। (আবু দাউদ)

অ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম

নাম অর্থ
অলীউল্লহ আল্লাহর বন্ধু
অসীম উজ্জ্বলবর্ণ, সুদৰ্শন
অহবান দাতা
অহাব দান
অসিউর রহমান রহমানের পক্ষ থেকে যাকে অসিয়ত করা হয়েছে
অসিউল হক হকের ব্যাপারে যাকে অসিয়ত
অহীদ, ওয়াহীদ একমাত্র, একাকী, অদ্বিতীয়
অজেদ, ওয়াজেদ প্রাপ্ত
অযীর, ওয়াযীর মন্ত্রী
অয়েল, ওয়ায়েল শরণার্থী
অবেল, ওয়াবেল প্রবল বর্ষণ
অরদান ফুলময়
অলী (ওলী)   বন্ধু
 অলীউর রহমান রহমানের বন্ধু
অলীউল হক হকের বন্ধু
অলীদ সদ্যজাত, জাতক
অসি, অসী যাকে অসিয়ত করা হয়
অসিউল্লহ আল্লাহর পক্ষ থেকে যাকে অসিয়ত করা হয়
অসীক সুদৃঢ়
অসীত মাধ্যম, মধ্যস্ততাকারী
অহীদুদ দ্বীন দ্বীন বিষয়ে অদ্বিতীয়
অহীদুয যামান যুগের অদ্বিতীয়
অহীদুল আলম বিশ্বের অদ্বিতীয়
অহীদুল ইসলাম ইসলাম বিষয়ে অদ্বিতীয়
অহীদুল হক হক বিষয়ে অদ্বিতীয়
অসেক ওয়াসেক আত্মবিশ্বাসী আশাবাদী
অহীদুদ দ্বীন অর্থ দ্বীন বিষয়ে অদ্বিতীয়
 অহীদুয যামান যুগের অদ্বিতীয়
অহীদুল আলম বিশ্বের অদ্বিতীয়
অহেদ ওয়াহেদ সূর্য
অর্ণব জলযুক্ত
অনিকেত গৃহহীন
অসীম উজ্জ্বলবর্ণ, সুদর্শন
অসীত মাধ্যম, মধ্যস্ততাকারী
অসীক সুদৃঢ়

আ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম

আবদুল্লাহআল্লাহর দাস।
আবিদএবাদতকারী
আমের শাসক
আহনাফ ধার্মিক
আনিস বন্ধু
আনুজম তারা
আতেফ দয়ালু
আবসারদৃষ্টি
আদিল ন্যায়পরায়ণতা
আখলাক চারিত্রিক
আশহাববীর
আসেফশাসক
আনসার বন্ধু
আখতারতারা
আমজাদসন্মানিত
আবসার দৃষ্টি
আহমাদ প্রশংসাকারী
আবরার ধাৰ্মিক
আজমলঅতি সুন্দর
আসেফ যোগ্য ব্যাক্তি
আমের শাসক
আহনাফ ধার্মিক
আবরারন্যায়বান
আজমলনিখুঁত
আখলাক গুণবতী
আসওয়াদ অতি উত্তম
আব্দুলনিরাপত্তা দাতা
আশিকমহৎ
আরমানপুরুষ সেনা
আতিকঅভিজাত
আরহাম জ্ঞানী
আজহারসর্বত্তম
আরিফ সাহসী
 আরফানদয়ালু
আনিস তারকা
আরিব বন্ধু
আমিরবিশ্বাসী
আকরাম বুদ্ধিমান
আইদ কল্যাণ
আহনাফ সর্বত্তম
 আফতাব  সর্বোচ্চ

ই-ঈ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম

ইব্রাহীম একজন নবীর নাম
ইসহাক একজন নবীর নাম
ইসলাহসংস্কার
ইসলাম আত্মসমর্পন
ইসমাইলএকজন নবীর নাম
ইসরাইল আল্লাহর বান্দা
ইহতেশামুল হক প্রকৃত বা ন্যায্য দান
ইকবাল হুসাইন সুন্দর অপ্রতিরোধ্য
ইকরাম সম্মান করা
ইলিয়াসএকজন নবীর নাম
ইহতেরামুল হক প্রকৃত সম্মান
ইমারতধনী হওয়া
ইমদাদুল হকপ্রকৃত সাহায্য
ইকবালসৌভাগ্য, উন্নতি
ইরফানুল হক প্রকৃত পরিচয় যথাযথ ব্যয়
ইরশাদ পথপ্রদর্শন করা
ইরশাদুদ্দীন দ্বীনের পূর্নতা
ইরশাদুল ইসলামইসলামের মুকুট
ইরতিসাম চিহ্ন
ইছবাত প্রমাণ করা
ইশয়াত প্রকাশ করা
ইস্রাফীলএকজন ফেরেস্তার নাম
ইসরাল প্রেরন করা
ইত্কান বিশ্বাস
ইত্তেহাদ জোট
ইজাজঅলৌকিক
ইফাজ উপকার করা
ইফতিখারগর্ব
ইহফাজ মুখস্থ করা,রক্ষা করা
ইহরাম দৃঢ় সংকল্প
ইহসানউপকার করা
ইহসাসঅনুভূতি
ইসমায়ীশ্রবন করা
ইহতিসাব ইহতিসাব
ইহতেশাম জাঁকজমক
ইজাব কবুল করা
ইজাজ অলৌকিক
ইজতিনাব এড়াইয়া চলা
এনায়েতুল হক প্রকৃত বা ন্যায্য দান
ইসফার আলোকিত হওয়া
ইসরার রহস্য,গোপন কথা
ইত্তেসাফ প্রশংসা,গুণ বর্ণনা
ইত্তেসামঅংকন করা
ইয়ানাত সহযোগিতা করা
ইবলাগপৌছানো
ইবতিদা কোন কাজ আরম্ভ করা
ইবতিসাম মুচকি হাসি দেওয়া
ইদরাক বুদ্ধি দৃষ্টি
ঈসার অপরকে অগ্রাধিকার দেওয়া
ঈজাব কবূল করা
ঈমান আল্লাহর রাসূল ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন
ঈ’সা জীবন্ত বৃক্ষ

উ-ঊ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম

উমর ফারুকদ্বিতীয় খলিফার নাম
উছমান গনি তৃতীয় খলিফার নাম
 উসমান তৃতীয় খলিফার নাম
উবায়দুল্লাহ আল্লাহর বান্দা
উবাইদাহ আল্লাহর দাস
উজায়ের মূল্যবান
উজাইজ শক্তি
উজাইর একজন নবীর নাম
উজাইব টাটকা
উসওয়াহ নমুনা
উসমান বিশ্বাস যোগ্য বন্ধু
উসরাত শরণার্থী; আশ্রয়; নিরাপত্তার
উসলুব পদ্ধতি
উসাইদ ছোট সিংহ; একজন সাহাবীর নাম
উসাইম সিংহ বাচ্চা
উসাফতারকা
উসামা সিংহের বর্ণনা
উসামাহ সিংহের বর্ণনা
উসামাহ সিংহের মতো; সিংহের বর্ণনা
উসায়দ সিংহশাবক
উসায়েসগুরুতর উপার্জনকারী
উহদাভী দায়িত্বে এক, অভিভাবক
উহবান আসলানি রাহ
উহাইদ চুক্তি, প্রতিশ্রুতি
উহাইব বেস্টোয়াল; একটি উপহার
উহাইব কিছু দেওয়া হয়েছে
উহানসাহসী; আল্লাহের দাস
উসমান তৃতীয় খলিফার নাম
উক্বাব সম্পাদনকারী
উবায়দউপাসক, আল্লাহর দাস
উবে পুরানো আরবি নাম, আল্লাহর দাস
উবায়েদ বিশ্বস্ত, ক্রীতদাস
উবাদ উপাসক, একনিষ্ঠ দাস
উষ্ণবপদ্ধতি
উক্কাব সম্পাদনকারী
উযায়েরমার্জিত রুচি সম্পন্ন ব্যক্তি
উযায়ের রাযীন মর্যাদাবান রুচি সম্পন্ন ব্যক্তি
উবায়েদ হাসান সুন্দর গোলাম
উরফাত মুফিদ উঁচু জায়গা বা উপকারী
উবাউদুর রহমানকরুনাময়ের দাস
ঊষা সকাল/ ভোর
ঊষাকিরণভোরের সূর্যের কিরণ
ঊষার্থী সকালে গাওয়া হয় এমন রাগ
ঊষাশ্রীসুন্দর/ সুখদায়ী
উরফাত মুফিদউঁচু জায়গা বা উপকারী

এ -ঐ দিয়ে ছেলেদের ইসলামিক নাম

এতেমাদআস্থা
এশারকউদিত হওয়া
এজাফা উন্নতি, অধিক
এজাফাউন্নতি, অধিক
একরামুদ্দীনদ্বীনের সম্মান করা
এহসানউপকার, দয়া
এসফারআলোকিত হওয়া
এয়া’নাতসহযোগিতা
এহতেশাম লজ্জা করা
এশারক উদিত হওয়া
এখলাস নিষ্ঠার, আন্তরিকতা
এসাম সাহাবীর নাম
এয়া’নাত সহযোগিতা
এমদাদুল হক সত্যের সাহায্য
এবাদুর রহমান করুণাময়ের বান্দা
এনাম হক সত্য প্রভুর হাদীয়া
এজায সম্মান, অলৌকিক
ঐকতানলহরী, সঙ্গীতের বিভিন্ন তানের একত্রিত লয়বদ্ধ রূপ
ঐশিক ঈশ্বরের সাথে সম্বন্ধযুক্ত
ঐকান্তিক সবচেয়ে আন্তরিক
ঐক্য অবিচ্ছিন্নতা, একরূপতা
ঐকাহিক আহ্নিক, প্রাত্যহিক
ঐতিহ্য প্রাকৃত, ঐতিহ্যগত
ঐহাব নির্দ্বিধায় দিতে পারে যে
ঐরেজু সত্যবাদী, সৎ, আন্তরিক

আল্লাহর নিকট সবচেয়ে উত্তম নাম হচ্ছে আব্দুল্লাহ ও আব্দুর রহমান। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন – 3 أحَبَّ أَسْمَائِكُمْ إِلَى اللَّهِ عَبْدُ اللَّهِ وَعَبْدُ الرَّحْمَنِ অর্থ-“তোমাদের নামসমূহের মধ্যে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছে- আব্দুল্লাহ (আল্লাহর বান্দা) ও আব্দুর রহমান (রহমানের বান্দা)।” এ নামদ্বয় আল্লাহর প্রিয় হওয়ার কারণ হল- এ নামদ্বয়ে আল্লাহর দাসত্বের স্বীকৃতি রয়েছে। তাছাড়া আল্লাহর সবচেয়ে সুন্দর দুটি নাম এ নামদ্বয়ের সাথে সম্বন্ধিত আছে। একই কারণে আল্লাহর অন্যান্য নামের সাথে আরবী ‘আব্দ’ (বান্দা বা দাস) শব্দটিকে সমন্ধিত করে নাম রাখাও উত্তম।

শিশুর নামকরণে লক্ষ্যণীয় দিক

পৃথিবীতে সন্তান জন্ম হওয়ার পর তাকে ডাকার জন্য যে পদ্ধতি অনুসণ করা হয়, তাই ইসম বা নাম। মানুষ দুনিয়ায় আসার পর প্রথম যে জিনিসটি লাভ করে তা হলো তার নাম-পরিচয়। মৃত্যুর পরেও মানুষের নাম বেঁচে থাকে। তাই আপনার শিশুর সুন্দর নাম রাখা তার জন্মগত অধিকার। শিশুদের সুন্দর ইসলামিক নাম তার জীবনের অনেক কিছু বহন করে। আর তাই ইসলামে এই নাম রাখার ব্যাপারে অত্যধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

শিশু জন্মগ্রহণ করার পর তার নাম রাখা হয়। শিশুর ইসলামিক নাম করণের সময় কতিপয় বিষয় লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন:-

১) নামকরণের ক্ষেত্রে নাম সুন্দর, শ্রুতিমধুর, মার্জিত ও অর্থবহ হওয়া প্রয়োজন।

২) আল্লাহর রাছুল নামের আগে কুনিইয়া রাখতেন। তাই নামের আগে কুনিইয়া রাখা যায়।

৩) খাতামুন্নাবীয়্যীন (সর্বশেষ নবী), সাইয়েদুল মুরসালীন (রাসুলগণের নেতা) ইত্যাদি যে সব গুণবাচক নামের হকদার একমাত্র রাসুলে কারীম (সঃ) সে সব নামে শিশুর নামকরণ করা ঠিক নয়।

৪) আল্লাহর সত্তাবাচক বা গুণবাচক নামের আগে তথা আব্দুল্লাহ বা আব্দুর রহমান নামের আগে আবদ শব্দ যোগ করে ডাকা হয় তা অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে। শুধু রহমান, রহীম, রাজ্জাক ইত্যাদি গুণবাচক নামে যেন ডাকা না হয়৷

৫) অনেক সময় দেখা যায় এমনভাবে নাম রাখা হয় যে এটা কি মুসলিম শিশুর নাম না অন্য কোন ধর্মের শিশুর নাম তা শুনে বুঝা যায় না। তাই মুসলিম শিশুর নাম এমনভাবে রাখা উচিত যা শোনলেই বুঝা যায় এটা এক জন মুসলিম শিশুর নাম। আবার অনেক সময় এমনভাবে নাম রাখা হয় ছেলে বা মেয়ের নামের মধ্যেও তেমন পার্থক্য বুঝা যায় না। এটা ঠিক নয়।

৬) ইসলামের ইতিহাসে খুবই ঘৃণিত যে সব নাম, যেমন ইবলীশ, শাদ্দাদ, কারুন, ফেরাউন, আবু জেহেল, আবু লাহাব ইত্যাদি সে সব নামে কোন শিশুর নাম রাখা উচিত নয়।

৭) শুধু আল্লাহ কারও নাম রাখা জায়েয নাই। আল্লাহ পাকের যাতী বোযায় এমন নামকরণ করা হারাম। অনুরূপভাবে আল্লাহর সাথে খাস এমন কোন নাম কারো সাথে লাগোনো যাবেনা। যেমন মালেকুল মুলক (জগতের বাদশাহ) সুলতানুস সালাতীন (বাদশাহদের বাদশাহ) ইত্যাদি।

৮)অধিকাংশ আলেমের মতে জিবরীর, ইসরাফীল, আজরাঈল, মীকাঈল ইত্যাদি ফেরেশতাদের নামে নামকরণ করাও ঠিক নয়।।

৯) যেসব নামের অর্থ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও আবদ বা গোলাম হওয়া বুঝায় এমন কোন নাম রাখা ঠিক নয় । যেমন গোলাম মোস্তফা, গোলাম নবী, গোলাম রাসুল, আব্দুন্নবী, আব্দুস শামস ইত্যাদি।

১০) শিশুদের সুন্দর নাম রাখা ভাল। তবে একাধিক নামও রাখা যেতে পারে। কারও নাম অসুন্দর হলে সে বড় হয়ে গেলেও সেই নাম পরিবর্তন করা যায়।

শিশুদের নামকরণে কুসংস্কারের উদাহরণ

গ্রামে নামকরণ কেন্দ্রীক অনেক কুসংস্কার রয়েছে । অনেক শিক্ষিত লোকদের মধ্যেও গ্রামের সেই কুসংস্কার বিরাজ করছে।
অনেকসময় গ্রামে লক্ষ করলে দেখা যায় যাদের ছেলে বা মেয়ে জন্ম নেয়ার পর পরই মারা যেত, পরবর্তীতে তাদের সন্তান হলে কপালে কালি মেখে দেয়া হতো এবং তাদের অদ্ভুত ধরনের নাম রাখা হতো। যেমন কালো, ধুলো, পচা,গজা, ইত্যাদি। এ ধরনের নামকরণের পিছনে ভুত, পেত্নী, জ্বিন এমনকি যমদুতের কুদৃষ্টি এড়ানো উদ্দেশ্য ছিল। এটা এক ধরনের কুসংস্কার। কোনও ধরনের কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে তাই শিশুর নাম রাখা ঠিক নয়।আল্লাহর হাতেই সকল মানুষের জীবন ও মৃত্যু নির্ভর করে।

আবার অনেককে দেখা যায় দীর্ঘ দিন সন্তান না হবার কারণে সন্তান ভিক্ষা করতে পীরের দরবারে বা আওলিয়াদের মাজারে যায়। এটা সম্পূর্ণ শেরকী আকীদা। কারণ আল্লাহ ছাড়া কারও পক্ষে সন্তান দেয়া সম্ভব নয়। আবার দীর্ঘদিন পর সন্তান লাভ করলে অনেকেই সেটাকে পীরের দান বলে মনে করে তাদের নাম পীরের দান বা পীর বখশ, খাজা বখশ বা খাজার দান রেখে দিত। এ ধরনের নাম রাখাও একবারেই ঠিক নয়। এভাবে মুসলমানদের মধ্যে নামকরণ কেন্দ্রীক অনেক কুসংস্কার রয়েছে।

শিশুর ইসলামিক নাম করণের সঠিক সময়

আলেমদের মতে শিশুর জন্মের সপ্তম দিনে নামকরণ ও আকীকা করা সুন্নাত। আর কেউ কেউ মনে করেন সন্তান জন্ম হবার পর পরই তার নামকরণ করা সুন্নাত।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আবি তালহার জন্মগ্রহণ হবার পর তাকে নিয়ে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর কাছে গেলাম। তখন তিনি হাত বুলিয়ে উটকে আদর করছিলেন। তারপর তিনি জানতে চাইলেন: আমার কাছে কি খেজুর আছে? আমি হ্যাঁ বললাম। তারপর আমি তাঁকে খেজুর দিলাম। তিনি তা চিবিয়ে নরম করলেন এবং শিশুটির মুখ ফাক করে তার মুখের ভিতর ভরে দিলেন, শিশুটি তখন তার মুখ নাড়াতে শুরু করলো। নবী (সঃ) বললেন খেজুর হচ্ছে আনসারদের প্রিয়। পরে তার নাম রাখলেন আব্দুল্লাহ। (বায়হাকী)। তাই সন্তান জন্মের পর পরই তার একটি সুন্দর ইসলামিক নাম রাখা যায়।

উপসংহার:

একটি সুন্দর অর্থবোধক নাম পাওয়াটা একটি শিশুর জন্মগত অধিকার। প্রতিটি বাবা মার উচিত একটি ইসলামিক অর্থবোধক নাম রাখা।ইসলামিক নামের প্রভাব ব্যাক্তির জীবনের উপর পড়ে। তাই একটি সুন্দর ইসলামিক নাম রাখতে হবে।হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম বলেছেন,কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হবে ওই ব্যক্তির নাম মালিকুল আমলাক (রাজাধিরাজ) নাম ধারণ করেছে। সহি বুখারী বুখারি হাদিস নং১৪০৩।এজন্য শিশুদের

প্রায়শই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করুন

শিশু জন্মের কততমদিনে নাম রাখবেন?

নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘জন্মের সপ্তম দিন নবজাতকের নাম রাখো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৮৩২)

শিশু জন্মের কততমদিনে আকিকা করতে হয়?

আকিকা করা একটি সুন্নত। সপ্তম দিন আকিকা করা আরেকটি সুন্নত। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘সপ্তম দিন রাসুল (সা.) হাসান (রা.) ও হোসাইন (রা.)-এর আকিকা দিয়েছেন এবং তাঁদের নাম রেখেছেন।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস : ৫৩১১)

শিশুর আকিকার নিয়ম কি?

সংগতি থাকলে ছেলের জন্য দু’টি খাশি। আর মেয়ের জন্য একটি খাশি আকিকা দিতে হবে।

কোন নাম রাখা যাবে না?

যে নাম শেরকী আকিদা বহন করে অর্থ ভালো না এমন নাম রাখা যাবে না।

আল্লাহর কাছে প্রিয় নাম কি কি?

আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় নাম হলো ‘আবদুল্লাহ’ ও আবদুর রহমান’।

(Visited 1,954 times, 1 visits today)

2 thoughts on “ছেলেদের ইসলামিক নাম অর্থসহ:ছেলেদের ২০০+ইসলামিক অর্থসহ নাম জেনে নেই।”

Leave a Comment